Header Ads

video example

হযরত আবুবকর (রাঃ) এর জীবনী: স্মরণীয় কিছু ঘটনা। (ধারাবাহিক পোস্ট।)

হযরত আবুবকর (রাঃ) এর জীবনী:
স্মরণীয় কিছু ঘটনা। (ধারাবাহিক
পোস্ট।)
________________________
ঘটনা ১:
তাবুক অভিযানে তিনি ছিলেন মুসলিম
বাহিনীর পতাকাবাহী।এ অভিযানের সময়
রাসুলাল্লাহ (সা),র এর
আহবানে সাড়া দিয়ে বাড়িতে যা কিছু
অর্থ-সম্পদ ছিল সবই
তিনি রাসুলাল্লাহ (সা),র
হাতে তুলে দেন। আল্লাহ’র রাসুল
জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আবু বকর
ছেলে মেয়েদের জন্য বাড়িতে কিছু
রেখেছো কি ? জবাবে আবু বকর
বললেনঃ তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর
রাসুলই যথেষ্ট।
ঘটনা 2:
শৈশব থেকে আবু বকরের
সাথে রাসুলাল্লাহ (সা)’র বন্ধুত্য ছিল।
তিনি রাসুলাল্লাহ (সা)’র অধিকাংশ
বাণিজ্য সফরের সফর সঙ্গী ছিলেন।
একবার রাসুলাল্লাহ (সা)’র
সঙ্গে ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া যান।
তখন তাঁর বয়স প্রায় আঠার আর হুজুর
(সা) এর বয়স বিশ। তাঁরা যখন
সিরিয়া সীমান্তে; বিশ্রামের জন্য
রাসুলাল্লাহ (সা)’র একটি গাছের
নীচে বসেন। আবু বকর একটু
সামনে এগিয়ে এদিক ওদিক
দেখতে লাগলেন। এক খ্রীষ্টান পাদ্রীর
সাথে তাঁর দেখা হয় এবং ধর্ম
বিষয়ে কিছু কথা-বার্তা হয়। আলাপের
মাঝখানে পাদ্রী জিজ্ঞেস
করে ওখানে গাছের নীচে কে ? আবু বকর
বললেন, এক কুরাইশ যুবক, নাম
মুহাম্মাদ বিন আবদিল্লাহ।
পাদ্রী বলে উঠল, এ ব্যক্তি আরবদের
নবী হবেন। কথাটি আবু বকরের
অন্তরে গেথে যায়। তখন থেকেই তার
অন্তরে রাসুলাল্লাহ (সা)’র
নবী হওয়া সম্পর্কে দৃঢ় প্রত্যয়
হতে থাকে। ইতিহাসে এ পাদ্রীর নাম
‘বুহাইরা’ বা’ নাসতুরা’ বলে উল্লেখিত
হয়েছে।
ঘটনা ৩:
রাসুলাল্লাহ (সা) মুখে মি’রাজের
কথা অনেকেই যখন বিশ্বাস-অবিশ্বা
সের মাঝখানে দোল খাচ্ছিল,তখন
তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বিশ্বাস স্থাপন
করেছিলেন। হযরত হাসান (রা)
বলেনঃ মি’রাজের কথা বহু সংখ্যক
মুসলমান ইসলাম ত্যাগ করে।
লোকে আবু বকরের
কাছে গিয়ে বলেঃ আবু ব্কর তোমার
বন্ধুকে তুমি বিশ্বাস কর? সে বলেছে,
সে নাকি গতরাতে বাইতুল
মাকদাসে গিয়েছে, সেখানে সে নামায
পড়েছে, অতঃপর মক্কায় ফিরে এসেছে।
আবু বকর
বললেনঃ তোমরা কি তাঁকে বিশ্বাস
কর? তারা বললঃ হ্যাঁ,
ঐতো মসজিদে বসে লোকজনকে এ
কথাই বলেছে। আবু বকর
বললেনঃ আল্লাহর কসম, তিনি যদি এ
কথাই বলে থাকেন তাহলে সত্য কথাই
বলেছেন। এতে অবাক হাওয়ার
কি দেখলে?
তিনি তো আমাকে বলে থাকেন,তাঁর
কাছে আল্লাহর কাজ থেকে ওহী আসে।
আকাশ থেকে ওহী আসে মাত্র এক
মুহূর্তের মধ্যে। তাঁর সে কথাও
আমি বিশ্বাস করি। তোমার যে ঘটনায়
বিস্ময় প্রকাশ করেছো এটা তাঁর
চেয়েও বিস্ময়কর। তারপর
তিনি রাসুলাল্লাহ (সা)
কাছে গিয়ে হাজির হলেন।
তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর
নবী, আপনি কি জনগনকে বলেছেন যে,
আপনি গত রাতে বাইতুল মাকদাস
ভ্রমন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
আবু বকর বললেনঃ আপনি ঠিকই
বলেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি,
আপনি নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসূল।
রাসুলাল্লাহ (সা) বললেলঃ হে আবু
বকর, তুমি সিদ্দিক। এভাবে আবু বকর
“সিদ্দিক” উপাধিতে ভুষিত হন।
ঘটনা ৪:
রাবীয়া আসলামী (রাঃ) বলেন, একবার
হযরত আবু বকর (রাঃ) ও আমার
মধ্যে কোন বিষয়ে মত-পার্থক্য
দেখা দিলে কিছু তর্ক-বিতর্কে তিনি কটু
কথা বললে আমি আন্তরিকভাবেই
ব্যথিত হলাম। তিনি সাথে সাথেই
তা উপলব্ধি করে আমাকে বললেন,
তুমিও আমাকে অনুরুপ
কথা বলে প্রতিশোধ নাও। আমি এরুপ
প্রতিশোধ নিতে অস্বীকার
করলে তিনি বললেন, আমি রাসুল (সাঃ)
এর দরবারে গিয়ে নালিশ করব।
আমি তাতে অস্বীকৃতি জানালাম।
তিনি চলে গেলেন। এমন সময়
বনী আসলামের লোকজন এসে বলল, এ
কেমন কথা; তিনিই অন্যায় করে আবার
তিনিই রাসুল (সাঃ) এর কাছে নালিশ
করতে গেলেন। আমি বললাম, ইনি আবু
বরক সিদ্দীক (রাঃ)। তিনি আমার উপর
অসন্তুষ্ট হলে আমার ধ্বংস অনিবার্য।
এরপর রাসুল (সাঃ) এর
খিদমতে আমি হাযির
হয়ে পুরো ঘটনা বর্ননা করলে তিনি (সাঃ)
বললেন, তুমি ঠিকই করেছ।
কখনো প্রতিশোধমূলক উত্তর
দেওয়া উচিত নয়। তবে এভাবে বলে দাও,
হে আবু বকর! আল্লাহ
আপনাকে ক্ষমা করুন। সত্যিকার
আল্লাহভীতি একেই বলে। একটা কথার
জন্য এত চিন্তা। আবু বকর সিদ্দীক
(রাঃ) এর মত লোক হঠাৎ একটি মাত্র
কটু কথা বলে একজনের মনে কষ্ট
দিয়েছেন। কিন্তু এ কথার প্রতিশোধ
নেয়ার জন্য তার কত চিন্তা, কত চেষ্টা।
প্রথমে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য
অনুরোধ করলেন, প্রতিশোধ
না নিলে তার বিরুদ্ধে রাসুল (সাঃ) এর
নিকট নালিশ করবেন এই ধরনের
কথা বললেন অর্থাৎ যে করেই হোক
নিজের ত্রুটির জন্য আল্লাহর
বান্দা থেকে ক্ষমা লাভ করতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.